Saturday, February 26, 2022

সৌতিক হাতীর কবিতা ।। Poems by Soutik Hati

সৌতিক হাতীর কবিতা 



অন্ধকারে লেখা...



অন্ধকারে বুক চিতিয়ে দাঁড়াই

          ছায়ার সাথে ছু কিত কিত খেলা

এখানে এখন শুকিয়ে যাওয়া নদী

           বন্ধ মনের অ্যালকোলাহল মেলা


মগ্ন দিনের ভগ্ন শপথ ফেলে

           নদী ভেসে গ্যাছে নিষিদ্ধ অঞ্চলে

স্মৃতি জেগে আছে সিগন্যালে সাইরেনে

             ভুল আবেশেই গ্রন্থি সব  খোলে


তুমি জেনে গ্যাছো রোবটের ঘরবাড়ি

              সিন্থেটিক গোলাপ ফুটেছে টবে

কাচঘরে আর শ্রাবণ আসে না চোখে

     সব জল আজ জমে গ্যাছে  বৈভবে


প্রত্ন দিনের মগ্ন সে পথ ছেড়ে

       হৃদি ভেসে গ্যাছে প্রসিদ্ধ নগরীতে

তুমি মেতে গ্যাছো মখমলে আইফোনে

      ভুল আবেশেই কবি সব আছে মেতে


অন্ধকারে সুখ বিছিয়ে পালাই

         মায়ার সাথে ফের লুকোচুরি খেলা

এখানে এখন শুকিয়ে যাওয়া নদী

     যদি পারো কিছু ঢেউ এনো এই বেলা



প্রলাপ


কৈশোরে ছিল অলীক স্বপ্ন অদম্য ঈগল

ফার্স্টবয় ফার্স্টবেঞ্চ কবিতা তবলা পুরস্কার

সাথে অব্যক্ত বিদিশার নিশা চেপে রাখা বিউগল

একদা বইপোকা শৈশব জুড়ে ভার্চুয়াল অন্ধকার


বিজ্ঞান না কলা বিভাগ এই দ্বন্দ্বে নষ্ট ক'বছর

গোঁফের রেখা পরিণত হওয়ার আগেই আঘাত

যূথী বনে ঝরা ফুল পাতা আঁকড়ে কংসাবতীর শহর

রঙীন গেলাসে মেশে স্মৃতি অ্যাশট্রেতে জমা হয় রাত


উদভ্রান্ত অনার্স যুবক ফার্স্টবয় লাস্টবেঞ্চ খোঁজে

অবক্ষয়ের হিসেব কবিতায় যায় আসে পরিযায়ী

মুমূর্ষু ঈগল চেয়ে থাকে শিকারী শিকার হয় সহজে

হেলেন কিংবা বনলতার অপেক্ষায় ধুঁকছে ধুমপায়ী


ঝড়ের মাঝেও সে এসেছিল সুদেষ্ণা অন্তরীপ

পরিযায়ী পাখিদের প্রলুব্ধ আক্রমনে বিধ্বস্ত আমি

জ্ঞানের অণ্বেষনে মহাভারত থেকে আমার ব-দ্বীপ

সমস্ত ক্ষত সেরে ফসলে ভরেছিল পরিত্যক্ত জমি


নিরাময় পেয়েই কবি  নীল ঘোড়ায় ছোটে

থেমে যাওয়া জরুরী থামো অ্যাড্রিনালিন রাশ

তৃষ্ণার্ত শরীর ইউলিসিসের পিপাসা ঠোঁটে

সুদেষ্ণা বিরাট রাজার দেশে এখানে ঈগলের লাশ


একটি অবাধ্য রাতের বুক চিরে

ঝরে পড়ছে উদ্ধত শিশির বিন্দু,

আবছা চাঁদের আলোয় 

ভেসে উঠছে বিগত দিনের অনুশোচনাময় অন্ধকার...


ছুঁচোর গায়ের গন্ধ আর গলির ঘেয়ো কুকুরের আর্তনাদ গিলে খাচ্ছে স্ট্রিটলাইটের রোশনাই...


এমতাবস্থায় জীবনের হিসেব নিকেশ

বুঝতে চাইছে রাতজাগা নাবিক,

ভুগোলের ক্লাস গ্লোব আর মানচিত্রের 

আঁকিবুকি হাতড়ে হাতড়ে ক্ষণস্থায়ী 

আশ্রয়ের আসন্নমান নির্ণয় করতে চাইছে সে...


চারিপাশে উড়ে যাচ্ছে চৌখস জোনাকি

তার দপ্ দপ্ শিখায় বেজে উঠছে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের বিপ্ বিপ্...

Thursday, February 24, 2022

দেবার্ঘ সেন-এর কবিতা ।। Debarghya Sen

দেবার্ঘ সেন-এর কবিতা ।। Debarghya Sen





অব্যয় 


শরীরের অন্তস্থ দ্বীপে অধিকারী আলো,

লবণাম্বুরাশি..কশেরুকা সৈকত ঘ্রাণ। 


কতদিন ছুঁইনি আবর্ত 


কেমন আছে সেসব সহজাত চণ্ডালাদি

কেমন আছে সেসব মিথ্যে স্রোত! 


দেখো মস্তিষ্কের মণ্ডপে শরীরের জলরঙে

ঘনিয়ে আসছে গোধূলি.. 


দোষ কাটিয়ে

বৃন্তকে কি জাগানো যাবে না এখনও 


শরীরের শেষ আলোয় দাগা হলে খড়িমাটি 

উভয়েই তো প্রাক চন্দ্রবিন্দু.. 


নড়ে উঠে ঝরে পড়া তুলসীপাতা অব্যয়



বেলেল্লাপনা 


ভয় নেমে আসছে

চুঁই চুঁই 

আগুনের বেলেল্লাপনা, ভালো লাগছে না আর। 


ভয় নেমে আসছে 

শৈবাল পাহাড় থেকে 


মানুষ বুঝতে পারছে না কোনদিকে যাওয়া ঠিক। 


যাদের দ্বারা ভয়কে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে 

তাদের কাছে মানুষ আশ্রয় চেয়ে 

একদা হয়েছিল সহায় 


ওহ, গণতন্ত্র তুমি আর কত নীচু হবে?



পিক্সেল


রাস্তার পাশে বড় গাছটার দুটো পাতা নড়ছে, অপ্রাকৃতিক। 

রাস্তাটা প্রাকৃতিকভাবে কেঁপে উঠবে আর কয়েক ঘন্টা পরে। 

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা চারচাকা গাড়িটি দুলছে। 

রাস্তাটা অপ্রাসঙ্গিকভাবে আবছা হয়ে যাবে, গণমাধ্যমের খামে 


আমি, আমার ফেসবুকে তোমার প্রোফাইল খুলে বসে আছি। 

গঙ্গার কোনও শুদ্ধিকরণ হয় না জেনে, প্যান্ট খুলে রাখছি লন্ড্রি ব্যাগে। 

লন্ড্রি ব্যাগ থেকে রিসাইকল বিন, রাস্তাটার ক্রমশঃ 

পিক্সেল কাউন্ট কমে আসছে

চোখে গঙ্গাজলের ঝাপটায়, গাড়িটিকে মাছিরা ঘিরে ধরছে, তীব্র আঁশটে গন্ধে..

নিমাই জানার ছয়টি কবিতা ।। Nimai Jana

 নিমাই জানার ছয়টি কবিতা ।। Nimai Jana




জীবাশ্ম ও বাবার বুকপকেট




জীবাশ্ম কঠিন পদার্থ হলেই প্রাচীন সংখ্যাগুলো ঠাণ্ডা সাংখ্যমান নিয়েই হলুদ জ্যামিতির কাছে শুয়ে আছে সমান্তরাল বিন্যাসে তাদের শরীরের ১৩  ডিগ্রির গভীর জ্বর ছিল এই উষ্ণমন্ডলে পাশাপাশি শুয়ে থাকার পর সকলেই গর্ভপাত ঘটায়না

যে ব্রততী মানুষেরা রাতের অ্যালকোহলিক দোকানের সামনে এসে তিনটি ঘুম রোগের ঔষধ ঠোঁটের নিচে রাখে , তারাও জননতন্ত্র হীন চৌকাঠ নিয়ে উধাও হয়ে যায় রাতের কৌণিক ঘরের দিকে, 

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত নামক এক প্রাচীন অমিতাভ পুরুষ আমার ভাঙ্গা আয়নার পাশে এসে বসল বিয়োগান্ত কবিতার বিলীয়মান রং মেখে , আমি বাবা জামার বুক পকেটের দেশলাই দ্বিখণ্ডক অথবা জিংক সায়ানাইডের লাল জরায়ুর মুখ ,

কোনদিন অসীম দৈর্ঘ্যের পাশে একটি স্বরলিপি তৈরীর উৎস কেন্দ্র দোকানের কাছে একাকী মৃত মানুষের টিউরিং রিডার তৈরি করছে কম্পাঙ্ক বাতাস , প্রকৃত ভগ্নাংশের মতো সবাই অভিনেতা , তাদের তিনটি পোশাক থাকে শুধুমাত্র রাত্রিকালীন ওয়ারড্রবের জন্য ,

সহস্র অঙ্গুরীমালের গরম পাজামা খুলে ঝুলিয়ে রাখি মৃত্যুহীন নৌকার মতো এখানে কোন পুরুষ ম্যাগনিফাইং গ্লাসের তলায় নিজেদের অসৎ চেহারাগুলো লুকিয়ে রাখে নৌকার দুই হাজার বছরের কোন পুরনো অসুখ ভেবে , ভিগোরা মিনিমেক্স পারফিউমের মতো চকচকে



নীল অসুখ ও একাকী করিডোর


কোন নারী গর্ভপাত বিষয়ক অসুখকে নীল আলোর উদ্ভিদ বলতে পারেনা কারণ সকলের মৃত্যু একদিনে হয় না , মৃত্যু মুখাপেক্ষী

এখানে পরকীয়া পাথরকুচির গর্ভকেশর গুলোই একদিন বিদেহী কাগজ ফুলের আত্মা হয়ে প্রজাপতি নগরীর ঘুরে বেড়াবে বিষধর সাপের মত অথচ আমি এক খোকন নামক অদ্ভুত পুরুষকে নিয়ে যাব বৈকুণ্ঠ ভরদ্বাজ মুনির কাছে

আমি এবার নগ্ন হয়ে যেতেই পোষাকেরা বর্ণহীন হয়ে গেল , আমার লিঙ্গ মুণ্ডে বিষধর সাপ কামড়ে ধরেছে মধ্য প্রহরে

আমি কেবল শীঘ্রপতনের কথা ভেবে চলেছি

পেনিসিলিয়াম নোটেটাম ও ভৌতিক শরীরপুঞ্জ রেখে আসার পর রাত্রে যারা একটি দোকানের খোলা পাঞ্জাবিকে আবারো একবার কঙ্কাল ভেবে খুলে দেয় , তারাই আঁতকে ওঠে অ্যাড্রিনালিনের যোগফল গন্ধ শুঁকে

কেউ পরজীবী নয় যৌগিক স্বরবর্ণের মাথার উপর সকলেই হলুদ শাড়ি পরেছে আজ , নৃত্যের সময় পায়ের কড়ে আঙ্গুল থেকে প্রতিটি ভৌতিক হাসতে হাসতে একটি শ্মশানের কাছে এসে মিলিয়ে যায় আধখানা চাঁদ আর একটি জরায়ুমুখ রেখে



তৃণভোজী নাবিক ও রাজুর চা দোকান


গতকাল স্থানাঙ্ক বিহীন হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম সজনী ফুল আর তার দেহ গুলোর মতো,  আমার বাবা আসলে গভীর রাতের নাবিক তার হাতের প্রতিটি নৌকা অতলান্ত সমুদ্র থেকে ফিরিয়ে এনেছে আমাদের প্রাচীন এক প্রপিতামহের বিশ্বযুদ্ধ

প্রাচীন দরজার হৃদপিণ্ডের উপর আমি শুক্রাশয়ের মতো ঝুলে থাকা একগুচ্ছ অন্ধকারের সাথে হাঁটুমুড়ে খেয়েছিলাম কাঁচা হলুদ রঙের পৌনঃপুনিক সমগ্র

আমি কেমন অস্থির হয়ে যাই খুব কম সময়ের জন্য , আমার নারী ঘুমের ভেতর একটি প্রকট শব্দ করে এই সাপেদের উপত্যকায় নেমে , পরীরা এসে মিলিয়ে যায় রেটেল স্নেকের পা ভেজানো জলের ভেতর মুখ রেখে

আমি প্যারাফিনের থালা থেকে রজনীগন্ধার গর্ভকেশর নিয়ে গলায় অ্যালকোহল ঢালছি রাজুর চা দোকানে দাঁড়িয়ে

নারায়ণ বল একটি পাললিক পাথরের নাম হতে পারে না , নাঙ্গলকাটার অবতল ভূমি ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে দেখেছি এখানে প্রতিটি মানুষের উদরদেশে একটি কালো রঙের বৃশ্চিক ঘুরে বেড়ায়

কোন মানুষ একবার সালফিউরিক দানাকে জড়িয়ে ধরলেই তারা নোনা পাথরের ঈশ্বরী হয়ে যায় খেয়াঘাটের পর



মিথোজীবী নারী ও শালগ্রাম চোখ


প্রতিটি নারী একাকী বেল পাতার মতো তিনটি পথ নিয়ে কালিদহ মুখে নেমে যায় , তারা কখনও খেয়া ঘাটে এসে রতিচক্রের কথা ভাবে না

কারণ এখানে অজস্র কালো রঙের পাথর অজগরের দাঁত হয়ে গেছে , কখনো নিধুবনের বিছানায় একাকী ক্রোমোজোমেরা বিশল্যকরণী পাতাবাহার রোপন করে দেওয়ার পর নিজের রেচন যন্ত্রগুলো ঘর্মাক্ত হয়ে উঠবে এই প্রজননকালের উর্বরক্ষেত্রে

৩৩ ডিগ্রি একটি অসুখের নাম হতে পারে হয়তো

পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ বকের শিরদাঁড়ার দিকে চেয়ে দেখেছি জীবিত স্তম্ভমূল থেকে নেমেই সকলে কাল্পনিক ঝুলে থাকে সাপের মতো আমি কতবার লিবিডো অসুখের কথা ভুলে বিষাদ স্তন খেয়েছি তৃতীয় বন্ধনীর মতো ,

আমার শীত লাগে জড়িয়ে ধরি পাগল নারীকে মিথোজীবী চন্দ্রগ্রহণ দিনে

আমার রক্তাক্ত পোশাক চাঁদে মিলে দেওয়ার পর এক প্রবাল পাথরের বাতাস বয়ে গেলো আমার দরজায় থাকা ময়ূরীর কাছে তারা সকলেই স্থির চোখ নিয়ে দেখে যাচ্ছে আমাদের পরকীয়া আর বিধ্বংস পাথর খেলা

রাত শেষ হলেই আমরা সকলেই পাথরের শালগ্রাম হয়ে যাই ,



নিষিদ্ধ মেডিকেল অথবা গর্ভপাত রোগী


আমাদের হাতে কোন অস্ত্র থাকে না বড় আর হলুদ কংক্রিট রাস্তা ধারে আমার বাবা বারবার ভ্রূণ বৃত্তান্ত পড়িয়েছিল আমাদের মাকে অথচ আমরা একটিও গ্রস্ত উপত্যকা খুঁজে পেলাম মদ্যপ ঘোরে

না কোনদিন ভিস্কোডিনে অথবা নেক্সিটো প্লাস ঘোড়াটিকে নিরাময় ভেবে আমার শরীরের চারপাশের কৌণিক বিন্দুতে স্থাপন করিনি আমার নারী আমাকে সন্দেহ করে প্রজাপতির সমবায় নগরীর মতিহার নিয়ে , মর্গে থাকা একটি সেবিকাই ডপলারের স্পন্দন শুনিয়েছিল তার নাম কাজল মল্লিক বললেই আমি লজ্জা পাই

আমি গলার কাছের বোতামটা আলগা করি

পায়ের ক্ষত মুখের তিন ইঞ্চি মাটির উপর দিকে থাকে কঙ্কালের ফসফরাস দাঁত , তেরোটি অপ্রকৃত ভগ্নাংশ নিজেরাই হেসে ওঠে এক পরজীবী ছায়ায়

তারা নামের পুরুষ কখনও একটি মেডিকেল শপের নিচে দাঁড়িয়ে নিজেদের নিষিদ্ধ ওষুধ কিনে বাড়ি ফিরতে পারে না ,কারন তার লুব্রিকেটেড কিনতে খুব লজ্জা লাগে গর্ভপাত রোগীদের মতো

আমি তবে কি একটি সন্তানের পর সব ইস্ট্রোজেন পাথরকুচির মতো উড়িয়ে চলি বায়বীয় করে , সকল শ্বাসবায়ুকে ভালবাসেনা তাই আয়নার কাছে দাঁড়াতে নেই , আয়নার ভেতর একটি গভীর হার্টের অসুখ আছে

ঘরের ভেতর ভাঙ্গা আয়নাটি আসলে গর্ভকেশরের রক্তজালক মাত্র




একটি আততায়ী পোশাক ও ওভরাল এল


প্রতিদিন ইকোস্প্রিন ওষুধ খাওয়ার পর উচ্চরক্তচাপে মিশে যাওয়া সাদা রক্ত কণিকার গায়ে অজস্র উদ্ভেদ দেখা যায়

সূর্যমুখীর চারা গাছ ভেঙে ভেঙে আমাদের কোকিলেরা আজ ঘরমুখো বিবস্ত্র পুরোহিত

একটি বস্ত্রালয়ের নারী প্লাস্টিক নারীর সব উপাংশ রেখে যায় আমাদের কঙ্কালের নিউক্লিওপ্লাজমের কাছে

আমাদের কোন হিমশীতল ক্ষেত্র নেই , আজ দ্বারকা নগরীতে একবার ইন্দ্রপ্রস্থের পত্তন হোক

ঈশ্বর আমি ও বাবা একসাথে বিষ খেয়েছিলাম চৈতন্য পুরুষের সাথে , আমাদের জামার ভেতর আলাদা তিন অসুখ ছিল

বৈরাগ্য ,ক্রোধ ও পাটি গণিত

হত্যা করার পর এখন ভ্রূণের শরীর থেকে দারুচিনির একটি গন্ধ উড়ে আসে তাকে আমি হলুদ রং দিয়ে ঢেকে রাখি তিনটি পেন্ডুলাম ঘড়ির নিচে

২০০ মিলিগ্রামের ওভরাল এল আর চার সপ্তাহের ভ্রুণ পরস্পর সমরেখ বিন্দুতে অবস্থান করে আছে

তারা সকলেই ৪ নম্বর কেবিনের ধারালো ফরসেপের ওপর কঙ্কাল বিন্দু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে

আবহাওয়াবিদ ক্লোরোপ্লাস্টিড সজীব মানুষগুলোকে আপাদমস্তক লগারিদমের জটিল শিরাবিন্যাসে ঢুকিয়ে রাখে মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত

আমরা সকলেই এ নেগেটিভ রক্তের সন্ধানে চললাম নীলাচলের দিকে , আমাদের শরীরে কালো রঙের আততায়ী পোশাক

নীরবের ঘুমঘুঙুর || ইহিতা এরিন, z-poems

 নীরবের ঘুমঘুঙুর || ইহিতা এরিন




রাত একথালা নেশাতুর নিশিবাদ্য

   বাজছে খলবলিয়ে কিন্তু শব্দ হচ্ছে না


নীরবতা; সব কান্নায় চোখের জল জরুরি নয়...


         অভিমানে ফেটে পড়ে আঙুরের ঘুমঘুঙুর নাতিদীর্ঘশ্বাস


দ্রবীভূত কুয়াশার ঘ্রাণ থেকে ঝরছে ওচানের জরায়ু


জলে কোন জল থাকেনা যেমন পায়ে থাকে না পা


এমন পাহীন রাতের দরজা খুলতেই চোখেরা সটান দাঁড়িয়ে যেন ওয়াচডগ

Wednesday, February 2, 2022

নিমাই জানার পাঁচটি কবিতা ।। নিমাই জানা, z-poems

 নিমাই জানার পাঁচটি কবিতা



(১) সিস্টোলিক ও স্থলপদ্মের জিভ



দেয়াল বেয়ে নেমে আসা সিস্টোলিক কলাবতী নারীরা কোন গম্বুজের রেতঃপাত থেকে আরো প্রাচীন মাধ্যাকর্ষণ হয়ে পড়বেন বশিষ্ঠ আশ্রমে  , বিষ্ণুর সৃষ্টি পিচ্ছিল তরল থেকে

কতকগুলো প্রাচীন সেবিকা প্যারালাইসিস রোগীর ডান হাতের স্নায়বিক অসুখের প্রথম অধ্যায়ে থাকেন

পরিচিত পাখিদের ডানা আর স্থলপদ্ম পুঁতে রাখে জিভ কোরকে ,

মৃতপ্রায় পুরুষদের নিয়ে আমি মৃত জাহাজের লোমকূপ ও গোপন প্রোতাশ্রয় ছুঁয়ে দেখি নরম মেহগিনি তলায় দাঁড়িয়ে

এখানে কোন ল্যাকটেট রঙের মানুষ নিজেকে ব্রহ্মাস্ত্র দিয়ে হত্যা করে না কোনোদিন , উচ্চতম পাহাড় বৃক্ষে দাঁড়িয়ে একা নিউটন চতুর্থ গতিসূত্র নির্ণয় করছেন পা আর স্নায়ুর ক্যালোরিফিক গতিপথ নিয়ে

এক গণিতজ্ঞ আমাকে কেবল চৌবাচ্চার প্রাচীন গনিত শিখিয়ে যায় ঐকিক নিয়মে , কেশব নাগ একটি শক্ত অভেদ গণিতের ভয় দ্রাঘিমাংশের নাম মাত্র


(২) আমার তলপেট ও নপুংসক ধান ঠোঁট


আমার তলপেটে শুয়ে আছে এক ধীবর , উলঙ্গ বাহার শাড়ি পরে শিব চতুর্দশীর দিনে মরচে রংয়ের ব্লেডে কেটে ফেলবে আমার জাগতিক এমবিক্যাল কর্ড আর ঈশ্বর জরায়ুর ধান চেরা ঠোঁট

আমি শুধু অবনতি কোণের দিকে চেয়ে থাকি , অবকলের নদে স্নান করা সুন্দরীদের দেখি , যাদের পিঠে  হিমালয়ের গোমুখ শুয়ে থাকে পাথরে গজিয়ে ওঠা দ্বিভুজ হরিণ ঘাসের  মতো

একান্তে জেগে উঠি আবারো কোন এক নপুংসক হয়ে , আগ্নেয় পাথর দারুচিনি বৃক্ষ হয়ে ঝুলে আছে বাতাবি ডগার উপর

সকলেই বিবস্ত্র হতে জানে সহজ পুরোহিতের নাভিমন্দিরে দাঁড়িয়ে , ভিনিগার মৃত মানুষকে অংশুমান করে তোলে একটি প্রাচীরের ধারে শ্যাওলা ওঠা তেলতেলে কড়াইয়ের নিচে নামিয়ে

সকলের পিঠে ধানের চারা রুয়ে দিচ্ছে আমার শিরদাঁড়ার বিচিত্র রঙের সাইন্যাপস আর জ্যোতির্ময় মাঝি

উপবৃত্তের নাভি বিন্দুর কখনো ঘুম পায় না বলেই সকলে সমাঙ্গ প্রাণীদের তলপেট ছিঁড়ে খায় খিদে পাওয়ার আগের মুহুর্তে

আমার জিভ আসলে একটি নগ্ন রাধিকার নাম


(৩) ইলোরা নারী ও দক্ষিণ বারান্দা



হিমোগ্লোবিন পাখিটির মতো আমি ক্রমে নরম মাংসাশী হয়ে উঠি,  ফার্মেসি দোকানে কাঁচের ভেতরে থাকা ইলোরা নারীদের গোপন অঙ্গ আর খাজুরাহো সরীসৃপেরা পাশাপাশি ডাইজেস্টিভ এনজাইম খাচ্ছে

নীল রঙের দাঁতাল পুরোহিত কিছু গলব্লাডারের ভেতর জমে থাকা পাথরের কণাগুলো রোপন করে আমার দক্ষিণ বারান্দায় এসে ,  যান্ত্রিক পুরুষটি মৃত্যু বিষয়ক কীটনাশক রেখে গেছে পান্থপাদপের গোপন ছায়ার নিচে  , হাঁটতে হাঁটতে ঈশ্বর মোহ পাথরের গুঁড়ো ফেলে যাবেন সনাতন চৌকাঠের ডগায়

সঙ্গমের স্থায়িত্ব মাত্র সেকেন্ড ভগ্নাংশ অথচ চৈতন্য অজস্র সঙ্গম করে গেছেন প্রতিটি কম্বোজ শরীরের ভেতর

তারপর তুলসী পাতা চিরহরিৎ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পরভৃৎ উঠোনের চারপাশে মৃত মানুষকেই খাবে বলে , মাংসাশী দাঁতের বিভাজ্যতা নেই

মাধুকরীর স্তব বলতেই ১৩ টি সাইকোলজিক্যাল মীনরাশি সন্ধ্যাকালে নেমে আসছে তেরো দফা হুক খোলা ব্লাউজের উপর ,

কালো রঙের অন্ধকার আর আমার মাথার ভেতর জেগে থাকা সাইক্রিয়াটিক রোগ পরস্পর সমানুপাতিক ,অ্যাক্রেলিক রঙের আদ্যাশক্তি কুয়াশা খাচ্ছেন বাকল খুলে রেখে , জামাটি প্রাচীন

অসুখে ভোগার পর আমি ভুল করে রজঃ নেশা ছেড়ে বিছানার জগন্নাথ কোণে দাঁড়িয়ে ঘামের স্ফটিক স্থানাঙ্ক  খুঁজে ফিরি সারারাত অবৈধ বৃষ্টিপাত হয়েছে

পাথরের শালগ্রাম রোপণ করেছি নিউক্লিয়প্লাজমের ডান বাহুতে


(৪) সান্তনু পুত্র ও সক্রেটিস রোগী


অ্যালকোহল নেশা চলে গেলেই আমি উন্মুক্ত স্থানে বসে একটি রঙিন বাঁশি বাজাই

করবী ফুলের পাতা , দেহ আর চুল শুকানোর নরম জায়গা ছাড়া আর কিছু নেই এই সংসার নৈঋতে

পাতাবাহারের কাল্পনিক দেহ থেকে ঝুলে থাকা অদৃশ্য রোগীরাই উবু হয়ে বসে বসে অদৃশ্য সান্তনু পুত্রদের একত্রে মনোযোগী করে তুলবে অপুষ্পক সংখ্যায়

পাতাবাহারের কাল্পনিক নাম বাবার আত্মহত্যার বিষধর ওষুধ বোতলে মিশে গেছে কাকতালীয় জালক বিন্যাস হয়ে

আমার চারপাশে উড়ে যাওয়া বর্গাকার বকের দেহ থেকে আমি লাল চন্দনের শোক বাহুটিকে নামিয়ে আনবো জলাশয়ের ধারে আমরাও বিজয় পুরুষটির সাথে সক্রেটিস হয়ে যাব সরলবর্গীয় আকাশমনি তলায় দাঁড়িয়ে

ক্লোরোসিস পাতায় কোনো ক্ষত নেই বলে মিলিমিটার স্কেল দিয়ে পিঠের শিরদাঁড়া মারছে এ্যালজোলাম রাত আর দ্রাঘিমা হীন গাইনোকোলজিস্ট

খেয়া ঘাটে এলে আমার বুকের ব্যথাটা চওড়া হয় ত্রিভুজ সংসারের মতো, বিপ্রতীপ বাহুগুলো উড়ে যায় আমার পাঁজরের কালো রশ্মি গুচ্ছ গ্ৰামে ,  আমি তাকে সুপুরুষ বলতেই পারি

একটি ব্যবচ্ছেদ টেবিলে দুটো ফরসেপ নিয়ে নিরক্ষীয় দৈর্ঘ্য আর সনদের মধু রাতগুলো কেটে দিচ্ছে তিনটি নার্স , একটি ভ্যালিয়াম , তিনটি গোলাপি কাপড়ের গজ ও ১৪ টি ক্যাটগার্ড


(৫) ধনাত্মক মধ্যরাত ও পানিথরের  উদ্ভিদ



খাদকের কোন গন্ধ নেই

১৩ জোড়া পুরুষের পারমার্থিক বিবাহ হয়ে যাওয়ার পর সকলেই বাবলা বৃক্ষের গর্ভকেশর রোপণ করলেন ,

ধনাত্মক স্থানাঙ্ক মধ্যরাতে এসে পূর্ণিমার রাতে প্রতিটি পুরুষ ক্রমশই অভিমুন্য ক্ষেত্র বরাবর হেঁটে যায়

পুরোহিত দেহের উন্মুক্ত স্থান বলতে কঙ্কালের কালো বিছানার গোপনাঙ্গকে বোঝায়

পাশাপাশি বসে আছি নিরক্ষীয় সুতোয় বেঁধে দেব গর্ভপাতের স্থানগুলো , প্রতিটি নৈঋতে সূর্যমুখী ফুল আর পানিথর উদ্ভিজ্জ সংলাপগুলো রোপন করে যাচ্ছেন হলুদ ধানের চারাগাছ , কীটনাশক রোম তাদের ঠোঁট থেকে নেমে যাওয়ার পর পানকৌড়ির নিরাময় বৃক্ষেরা বৈষ্ণব চিহ্ন মাথায় রাখে

আলেকজান্ডারের শিরদাঁড়া দেখেছে সূর্যের অবনতি কোণ নামক সহস্য সংখ্যার জ্যামিতিক নারী , ভৌগোলিক তিনি,

মৃত নারীর গোপনাঙ্গের চেয়ে প্রাচীন কোন জনপদ নেই

জ্যামিতি বক্সের ভেতর প্রতিটি পুরুষ খণ্ডিত হয়ে শুয়ে থাকে , তার মাপ শুধু অর্ধ চাঁদই জানে , আর ক্ষত জানে ক্যাকটাসের রোদ

সৌতিক হাতীর কবিতা ।। Poems by Soutik Hati

সৌতিক হাতীর কবিতা  অন্ধকারে লেখা... অন্ধকারে বুক চিতিয়ে দাঁড়াই           ছায়ার সাথে ছু কিত কিত খেলা এখানে এখন শুকিয়ে যাওয়া নদী         ...