Wednesday, February 2, 2022

নিমাই জানার পাঁচটি কবিতা ।। নিমাই জানা, z-poems

 নিমাই জানার পাঁচটি কবিতা



(১) সিস্টোলিক ও স্থলপদ্মের জিভ



দেয়াল বেয়ে নেমে আসা সিস্টোলিক কলাবতী নারীরা কোন গম্বুজের রেতঃপাত থেকে আরো প্রাচীন মাধ্যাকর্ষণ হয়ে পড়বেন বশিষ্ঠ আশ্রমে  , বিষ্ণুর সৃষ্টি পিচ্ছিল তরল থেকে

কতকগুলো প্রাচীন সেবিকা প্যারালাইসিস রোগীর ডান হাতের স্নায়বিক অসুখের প্রথম অধ্যায়ে থাকেন

পরিচিত পাখিদের ডানা আর স্থলপদ্ম পুঁতে রাখে জিভ কোরকে ,

মৃতপ্রায় পুরুষদের নিয়ে আমি মৃত জাহাজের লোমকূপ ও গোপন প্রোতাশ্রয় ছুঁয়ে দেখি নরম মেহগিনি তলায় দাঁড়িয়ে

এখানে কোন ল্যাকটেট রঙের মানুষ নিজেকে ব্রহ্মাস্ত্র দিয়ে হত্যা করে না কোনোদিন , উচ্চতম পাহাড় বৃক্ষে দাঁড়িয়ে একা নিউটন চতুর্থ গতিসূত্র নির্ণয় করছেন পা আর স্নায়ুর ক্যালোরিফিক গতিপথ নিয়ে

এক গণিতজ্ঞ আমাকে কেবল চৌবাচ্চার প্রাচীন গনিত শিখিয়ে যায় ঐকিক নিয়মে , কেশব নাগ একটি শক্ত অভেদ গণিতের ভয় দ্রাঘিমাংশের নাম মাত্র


(২) আমার তলপেট ও নপুংসক ধান ঠোঁট


আমার তলপেটে শুয়ে আছে এক ধীবর , উলঙ্গ বাহার শাড়ি পরে শিব চতুর্দশীর দিনে মরচে রংয়ের ব্লেডে কেটে ফেলবে আমার জাগতিক এমবিক্যাল কর্ড আর ঈশ্বর জরায়ুর ধান চেরা ঠোঁট

আমি শুধু অবনতি কোণের দিকে চেয়ে থাকি , অবকলের নদে স্নান করা সুন্দরীদের দেখি , যাদের পিঠে  হিমালয়ের গোমুখ শুয়ে থাকে পাথরে গজিয়ে ওঠা দ্বিভুজ হরিণ ঘাসের  মতো

একান্তে জেগে উঠি আবারো কোন এক নপুংসক হয়ে , আগ্নেয় পাথর দারুচিনি বৃক্ষ হয়ে ঝুলে আছে বাতাবি ডগার উপর

সকলেই বিবস্ত্র হতে জানে সহজ পুরোহিতের নাভিমন্দিরে দাঁড়িয়ে , ভিনিগার মৃত মানুষকে অংশুমান করে তোলে একটি প্রাচীরের ধারে শ্যাওলা ওঠা তেলতেলে কড়াইয়ের নিচে নামিয়ে

সকলের পিঠে ধানের চারা রুয়ে দিচ্ছে আমার শিরদাঁড়ার বিচিত্র রঙের সাইন্যাপস আর জ্যোতির্ময় মাঝি

উপবৃত্তের নাভি বিন্দুর কখনো ঘুম পায় না বলেই সকলে সমাঙ্গ প্রাণীদের তলপেট ছিঁড়ে খায় খিদে পাওয়ার আগের মুহুর্তে

আমার জিভ আসলে একটি নগ্ন রাধিকার নাম


(৩) ইলোরা নারী ও দক্ষিণ বারান্দা



হিমোগ্লোবিন পাখিটির মতো আমি ক্রমে নরম মাংসাশী হয়ে উঠি,  ফার্মেসি দোকানে কাঁচের ভেতরে থাকা ইলোরা নারীদের গোপন অঙ্গ আর খাজুরাহো সরীসৃপেরা পাশাপাশি ডাইজেস্টিভ এনজাইম খাচ্ছে

নীল রঙের দাঁতাল পুরোহিত কিছু গলব্লাডারের ভেতর জমে থাকা পাথরের কণাগুলো রোপন করে আমার দক্ষিণ বারান্দায় এসে ,  যান্ত্রিক পুরুষটি মৃত্যু বিষয়ক কীটনাশক রেখে গেছে পান্থপাদপের গোপন ছায়ার নিচে  , হাঁটতে হাঁটতে ঈশ্বর মোহ পাথরের গুঁড়ো ফেলে যাবেন সনাতন চৌকাঠের ডগায়

সঙ্গমের স্থায়িত্ব মাত্র সেকেন্ড ভগ্নাংশ অথচ চৈতন্য অজস্র সঙ্গম করে গেছেন প্রতিটি কম্বোজ শরীরের ভেতর

তারপর তুলসী পাতা চিরহরিৎ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পরভৃৎ উঠোনের চারপাশে মৃত মানুষকেই খাবে বলে , মাংসাশী দাঁতের বিভাজ্যতা নেই

মাধুকরীর স্তব বলতেই ১৩ টি সাইকোলজিক্যাল মীনরাশি সন্ধ্যাকালে নেমে আসছে তেরো দফা হুক খোলা ব্লাউজের উপর ,

কালো রঙের অন্ধকার আর আমার মাথার ভেতর জেগে থাকা সাইক্রিয়াটিক রোগ পরস্পর সমানুপাতিক ,অ্যাক্রেলিক রঙের আদ্যাশক্তি কুয়াশা খাচ্ছেন বাকল খুলে রেখে , জামাটি প্রাচীন

অসুখে ভোগার পর আমি ভুল করে রজঃ নেশা ছেড়ে বিছানার জগন্নাথ কোণে দাঁড়িয়ে ঘামের স্ফটিক স্থানাঙ্ক  খুঁজে ফিরি সারারাত অবৈধ বৃষ্টিপাত হয়েছে

পাথরের শালগ্রাম রোপণ করেছি নিউক্লিয়প্লাজমের ডান বাহুতে


(৪) সান্তনু পুত্র ও সক্রেটিস রোগী


অ্যালকোহল নেশা চলে গেলেই আমি উন্মুক্ত স্থানে বসে একটি রঙিন বাঁশি বাজাই

করবী ফুলের পাতা , দেহ আর চুল শুকানোর নরম জায়গা ছাড়া আর কিছু নেই এই সংসার নৈঋতে

পাতাবাহারের কাল্পনিক দেহ থেকে ঝুলে থাকা অদৃশ্য রোগীরাই উবু হয়ে বসে বসে অদৃশ্য সান্তনু পুত্রদের একত্রে মনোযোগী করে তুলবে অপুষ্পক সংখ্যায়

পাতাবাহারের কাল্পনিক নাম বাবার আত্মহত্যার বিষধর ওষুধ বোতলে মিশে গেছে কাকতালীয় জালক বিন্যাস হয়ে

আমার চারপাশে উড়ে যাওয়া বর্গাকার বকের দেহ থেকে আমি লাল চন্দনের শোক বাহুটিকে নামিয়ে আনবো জলাশয়ের ধারে আমরাও বিজয় পুরুষটির সাথে সক্রেটিস হয়ে যাব সরলবর্গীয় আকাশমনি তলায় দাঁড়িয়ে

ক্লোরোসিস পাতায় কোনো ক্ষত নেই বলে মিলিমিটার স্কেল দিয়ে পিঠের শিরদাঁড়া মারছে এ্যালজোলাম রাত আর দ্রাঘিমা হীন গাইনোকোলজিস্ট

খেয়া ঘাটে এলে আমার বুকের ব্যথাটা চওড়া হয় ত্রিভুজ সংসারের মতো, বিপ্রতীপ বাহুগুলো উড়ে যায় আমার পাঁজরের কালো রশ্মি গুচ্ছ গ্ৰামে ,  আমি তাকে সুপুরুষ বলতেই পারি

একটি ব্যবচ্ছেদ টেবিলে দুটো ফরসেপ নিয়ে নিরক্ষীয় দৈর্ঘ্য আর সনদের মধু রাতগুলো কেটে দিচ্ছে তিনটি নার্স , একটি ভ্যালিয়াম , তিনটি গোলাপি কাপড়ের গজ ও ১৪ টি ক্যাটগার্ড


(৫) ধনাত্মক মধ্যরাত ও পানিথরের  উদ্ভিদ



খাদকের কোন গন্ধ নেই

১৩ জোড়া পুরুষের পারমার্থিক বিবাহ হয়ে যাওয়ার পর সকলেই বাবলা বৃক্ষের গর্ভকেশর রোপণ করলেন ,

ধনাত্মক স্থানাঙ্ক মধ্যরাতে এসে পূর্ণিমার রাতে প্রতিটি পুরুষ ক্রমশই অভিমুন্য ক্ষেত্র বরাবর হেঁটে যায়

পুরোহিত দেহের উন্মুক্ত স্থান বলতে কঙ্কালের কালো বিছানার গোপনাঙ্গকে বোঝায়

পাশাপাশি বসে আছি নিরক্ষীয় সুতোয় বেঁধে দেব গর্ভপাতের স্থানগুলো , প্রতিটি নৈঋতে সূর্যমুখী ফুল আর পানিথর উদ্ভিজ্জ সংলাপগুলো রোপন করে যাচ্ছেন হলুদ ধানের চারাগাছ , কীটনাশক রোম তাদের ঠোঁট থেকে নেমে যাওয়ার পর পানকৌড়ির নিরাময় বৃক্ষেরা বৈষ্ণব চিহ্ন মাথায় রাখে

আলেকজান্ডারের শিরদাঁড়া দেখেছে সূর্যের অবনতি কোণ নামক সহস্য সংখ্যার জ্যামিতিক নারী , ভৌগোলিক তিনি,

মৃত নারীর গোপনাঙ্গের চেয়ে প্রাচীন কোন জনপদ নেই

জ্যামিতি বক্সের ভেতর প্রতিটি পুরুষ খণ্ডিত হয়ে শুয়ে থাকে , তার মাপ শুধু অর্ধ চাঁদই জানে , আর ক্ষত জানে ক্যাকটাসের রোদ

1 comment:

সৌতিক হাতীর কবিতা ।। Poems by Soutik Hati

সৌতিক হাতীর কবিতা  অন্ধকারে লেখা... অন্ধকারে বুক চিতিয়ে দাঁড়াই           ছায়ার সাথে ছু কিত কিত খেলা এখানে এখন শুকিয়ে যাওয়া নদী         ...